কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৮৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার!

0
612
প্রতিবছরই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কলাগাছ, কাপড়, বাঁশের কঞ্চি, বেঞ্চ, টেবিল, রঙিন কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে পালন করে মাতৃভাষা দিবস। শ্রদ্ধা জানায় ও স্মরণ করে ভাষা শহীদদের।
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজসহ মোট ২৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তন্মধ্যে ১৮৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শহীদ মিনার। তবুও প্রতিবছরই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কলাগাছ, কাপড়, বাঁশের কঞ্চি, বেঞ্চ, টেবিল, রঙিন কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে পালন করে মাতৃভাষা দিবস। শ্রদ্ধা জানায় ও স্মরণ করে ভাষা শহীদদের।  জানা গেছে, উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৪৭ টি। এর মধ্যে ১২৭ টি বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ রয়েছে মোট ৮৩ টি। তন্মধ্যে ৫৭ টিতে নেই শহীদ মিনার।  এ বিষয়ে উপজেলার লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৩২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ফান্ড না থাকায় নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। প্রতিবছর বেঞ্চ, টেবিল, রঙিন কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় ও স্মরণ করি।’ জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। কখনও পাশের বিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করি। আকার কখনও বাঁশ কাঠ দিয়ে ভ্রাম্যমাণ বানানো হয় শহীদ মিনার।’ উপজেলা মাধ্যমিক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিভিন্ন সময়ে ২৬ টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি। বরাদ্দ পেলে তারা দ্রুতই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় শহীদ মিনার নেই, এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করা হয়েছে। মাত্র ২০ টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। তবে সরকারি নকশা অনুযায়ী কোন শহীদ মিনার নেই। সারাদেশে একই রঙ ও আকৃতির শহীদ নির্মাণ করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুতই এসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।’  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, ‘সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা সফল হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হবে।’