একাত্তরের পরাজিত ঘাতকরা পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড: হানিফ

0
100

গড়াইনিউজ২৪.কম:: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ (বাংলাদেশ শাখা) ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন গৌরব’৭১। রবিবার জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এই চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে শেষ হয় ৫টা ৩০ মিনিটে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘ভোরের পাখি শেখ রাসেল’। মোট তিন বিভাগে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফাঁকে শেখ রাসেলের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় শিশু ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তারপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব এবং সবশেষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর ঘটনার একটি। এদেশের রাজনীতি, সমাজনীতি কোনটাই রাসেলকে স্পর্শ করতে পারেনি। তার অপরাধ একটাই সে বঙ্গবন্ধুর সন্তান। এজন্য একাত্তরের ঘাতকরা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক অবক্ষয় চলে এসেছে। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে। যারা ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত তারা মানুষ নয়, তারা হচ্ছে পশু। মসজিদ, গীর্জা,মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গা থেকে ধর্ষণের অভিযোগ আসছে। সরকারও এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার বিধান করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, দোষারোপের রাজনীতি করে সামাজিক এই অনাচার থেকে বের হতে পারবো না। সামাজিক ভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে এটা প্রতিহত করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, শেখ রাসেল ছোট বয়স থেকেই তার প্রতিবেশী শিশুদের সাথে নিজের খাবার, পোশাক ভাগ করে নিতে শিখেছিলেন। আজকের শিশুরা তার কাছ থেকে এসব অনুকরণী গুণাবলী গ্রহণ করতে পারে। তার জন্মদিন ১৮ অক্টোবরকে আমরা জাতীয় দিবস ঘোষণা করার দাবি জানাই।আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন শেখ রাসেল ছিল আমাদের কাছে খেলার পুতুলের মতো। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্য রাসেলকে নিয়ে খেলায় মেতে থাকতো। অথচ সে রাসেলকেও হায়েনারা ছাড়েনি। আমার বিবেকে প্রশ্ন জাগে, কি অন্যায় করেছিল ছোট শিশু রাসেল? বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। দিনটি অত্যন্ত আনন্দমুখর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নরপশুদের কারণে তা আমরা করতে পারছি না। পৃথিবীতে রাসেল হত্যার কোন নজির আমি খুঁজে পাইনি। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস বলেন, ঘৃণা হচ্ছে তাদের প্রতি যারা শেখ রাসেলের মতো ছোট্ট বাচ্চার সাথে এতো নির্দয় আচরণ করেছে। তিনি বলেন, শেখ রাসেল যদি বেঁচে থাকতো তাহলে আজকে বাংলাদেশের অন্যতম নেতা হতে পারতো। খুনীরা জানতো যে, বঙ্গবন্ধুর রক্ত বেঁচে থাকলে তাহলে সে একদিন এদেশের নেতৃত্বে আসবে। এজন্য তারা ছোট্ট রাসেলকেও নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম বলেন, ছোট্ট শিশু মায়ের কাছে যাওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেছিল, আমি মায়ের কাছে যাবো। কিন্তু তাকে যেতে না দিয়ে তাকে হত্যা করা হলো।

একটি উত্তর ত্যাগ