
গড়াইনিউজ২৪.কম:: ঢাকাসহ সারাদেশের ওপর বয়ে চলা মৃদু তাপপ্রবাহ দুঃসহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আগের দিন ভোরে রাজশাহীতে বৃষ্টির প্রভাব নেতা তাপমাত্রায়। তীব্র গরমে অতীষ্ঠ নগরবাসী। প্রখর সূর্যতাপ পুড়িয়ে দিচ্ছে চারপাশ। রোজার মাসে এই আবহাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশবাসীর জন্য। আবহাওয়া অধিদপ্তর অবশ্য সুখবর দিচ্ছে। তাদের পূর্বাভাস বলছে, এই তাপদাহের অবসান হচ্ছে সহসা। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আর এরপর কমে আসবে গরম। আবহাওয়া আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখন বর্ষা মৌসুম চলে এসেছে, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে, বৃষ্টি হলেই তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাবে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।’ ‘ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের অনেক জাযগায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া এবং বিজলী চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।’ আবহাওয়া অফিস পূর্বভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এরাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ঘণীভূত হয়ে হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে একই এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঢাকায় আজকের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াম এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি। আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সাতক্ষীরায় ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বরিশাল ও চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি শুরু হলে সবচেয়ে বেশি ঝরবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের মানে হলো: বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে। প্রাকৃতিক নানা কারণে সমুদ্রের একটি অঞ্চলে কেন্দ্রাভিমুখী ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল বা লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে এ ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চলটি শক্তি সঞ্চয় করে (বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেয়ে) সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও শেষে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

























