
গড়াইনিউজ২৪.কম:: জনভোগান্তির কথা চিন্তা করেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগের বর্ষবরণের শোভাযাত্রা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নববর্ষের সকালে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন তিনি। শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডিরর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন বাংলা বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আওয়ামী লীগ নেতা। এ সময় আওয়ামী লীগের বর্ষবরণের শোভাযাত্রা বাতিলের প্রসঙ্গ আসে। পয়লা বৈশাখে প্রতি বছর পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত শোভাযাত্রা করলেও এবার এই কর্মসূচি বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। নববর্ষের আগের দিন বৃহস্পতিবারই সংবাদ সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সোমবার ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শাহ শফীর নেতৃত্বে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক আলেম ওলামাদের একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। এ সময় শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন। এরপর আওয়ামী লীগের নববর্ষের শোভাযাত্রা বাতিলের খবর নতুন আলোচনার জন্ম নেয়। কারণ, ধর্মভিত্তিক দলগুলো নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা বা এই ধরনের আয়োজনের বিরোধী। তবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ধর্মীয় দল বা গোষ্ঠীর মতামতের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলশোভাযাত্রা কিংবা পয়লা বৈশাখের সাথে ধর্মের কোন বিরোধ নেই। সুতরাং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। জনস্বার্থের কথা চিন্তা করেই সব কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল কাঠামোর মধ্যে আনার জন্যই কওমি মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে হেফাযতে ইসলামের সাথে জোট হয়েছে বলে কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। শোভাযাত্রা বাতিল করে আওয়ামী লীগ নেতারা নববর্ষ উদযাপন করেছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। সকাল ১০টার পর দল বেঁধে গণভবনে যান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আপ্যায়নও থাকছে তাদের জন্য।

























