প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে রমনার বটমূল

0
715
রমনার বটমূলে তৈরি করা হচ্ছে মঞ্চ

ঢাকা অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বর্ষবরণের সঙ্গীতানুষ্ঠান হয়ে আসছে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর রমনার বটমূলে ছেদ পড়ে এ অনুষ্ঠানে। ছায়ানটের আয়োজনে প্রথম রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের সূর্যোদয়ের সময় সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। এরপর কেবল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বৈরী পরিবেশের কারণে অনুষ্ঠান হতে পারেনি। এছাড়া ২০০১ সালে রমনার গানের অনুষ্ঠানে জঙ্গিরা ভয়াবহ বোমা হামলা করলেও ছেদ পড়েনি অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায়। তবে সেই অনুষ্ঠানে বাধ সাধে করোনা। এখন সংক্রমণের তীব্রতা কমে আসায় ফের বটতলায় এই সঙ্গীতানুষ্ঠান হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপন হবে। এ বিষয়ে গত ২ এপ্রিল ছায়ানট সংবাদ সম্মেলন করে। তখন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সংগীতজ্ঞ সন্জীদা খাতুন জানিয়েছিলেন, দুঃসময় অতিক্রম করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আনন্দ নিয়ে এবার নববর্ষের অনুষ্ঠান হবে। নতুন কর্মপ্রেরণায় জেগে ওঠার গান থাকবে অনুষ্ঠানে। এদিকে বুধবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, রমনার পশ্চিম পাশের লেকের ধারের বিখ্যাত বটমূল ঘিরে মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন কর্মীরা। মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে আরও তিনদিন আগে। হাতে সময় কম, তাই কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। তবে এবার মঞ্চে শিল্পীদের কোনো চূড়ান্ত মহড়া হচ্ছে না। এবার ছায়ানটের শিল্পীদের পাশাপাশি অন্য শিল্পীরাও উপস্থিত থাকবেন। প্রতি বছর ১২৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করলেও স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে এবার ১০০ জন শিল্পী অংশ নেবেন। ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা জানান, সঙ্গীতানুষ্ঠানের সময় সামান্য একটু কমে আসবে। এছাড়া সবারই উৎসাহ আছে। অনেকদিন পর এমন আনন্দ-আয়োজনের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি। এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে। শেষ হবে ৮টা ৩০ মিনিটে। এবার গেটের সংখ্যা আটটি। এর মধ্যে প্রবেশপথ তিনটি, যথাক্রমে অরুণোদয়, রমনা রেস্তোরাঁ, অস্তাচল। আর বের হওয়ার পথ দুটি যথাক্রমে বৈশাখী ও উত্তরায়ণ। একই সঙ্গে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথ তিনটি যথাক্রমে শ্যামলিমা, স্টার গেট ও নতুন গেট। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে জরুরি চিকিৎসাসেবা। নারী, বয়স্ক ও শিশুদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার। কেউ হারিয়ে গেলে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ সেবা রয়েছে। তবে রমজান মাস হওয়ায় এবার থাকছে না কোনো খাবারের দোকান। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক সপ্তাহ ধরে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চারুকলা বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে সাজ সাজ রব। জয়নুল গ্যালারির সামনে একদল শিক্ষার্থী মাটির সরায় মাছ, পাখি, ফুলসহ নানা চিত্র এঁকে চলেছেন। আরেক দল তৈরি করছেন নানা মুখোশ। কিছু শিক্ষার্থী হাতপাখা-চরকি বানাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, এবারের শোভাযাত্রায় ঘোড়া ও টেপা পুতুলসহ মোট পাঁচটি বড় মোটিফ থাকবে।মঙ্গল শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় চারদিকে পুলিশ, র‍্যাব ও সোয়াট টিম থাকবে বলে জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশ। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ইউনিফর্মের পাশাপাশি থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ। যেসব সড়ক দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা যাবে সেখানকার ভবনের ছাদে থাকবে পুলিশ। সমগ্র এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার মাঝপথে কেউ ঢুকতে পারবে না। যারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে চান তাদের সবাইকে চারুকলায় যেতে হবে।

বর্ষবরণের অনুষ্ঠান দুপুর ২টা পর্যন্ত

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবার পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান দুপুর ২টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে মানুষ এখান থেকে বের হয়ে সহজে বাসায় গিয়ে ইফতারি করতে পারে। তিনি আরও জানান, দুপুর ১টার পর রমনায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানস্থলে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া মাঝপথে কেউ শোভাযাত্রায় যোগ দিতে পারবেন না। ছায়ানটের আয়োজন বেলা ১১টার মধ্যে শেষ করতে হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, দুপুর ২টার মধ্যে রমনা এলাকার মেলা গুটিয়ে ফেলতে হবে। বর্ষবরণের দিনে দুপুর ১টার পর রমনায় প্রবেশের সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া এদিন রমনা পার্ক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে থাকবে চেকপোস্ট। এসব চেকপোস্ট পার হয়ে প্রত্যেককে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। এসব এলাকায় সব যানবাহন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

জঙ্গি তৎপরতার তথ্যে বাড়তি নিরাপত্তা

দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে এমন তথ্য পাওয়া রমনার অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি কিছু বন্ধু রাষ্ট্র জঙ্গিদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। উপমহাদেশে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু রেডিক্যালাইজড সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করছি। সেকারণেই আমাদের এ বাড়তি নিরাপত্তা।

রমনায় বর্ষবরণে আকাশপথে নিরাপত্তায় র‍্যাব

এবারের পহেলা বৈশাখে আকাশপথে র‍্যাব নিরাপত্তা দেবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, আমরা আকাশ পথেও নিরাপত্তা দেবো। হেলিকপ্টারযোগে সম্ভাব্য সব স্থানে নজরদারি রাখা হবে। তিনি বলেন, র‍্যাবের মোটরসাইকেল টহল থাকবে। সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবে গোয়েন্দা সদস্য। ডগ স্কোয়াড থাকবে। থাকবে স্ট্রাকিং রিজার্ভ ফোর্স। তাৎক্ষণিক যে কোনো প্রয়োজনে তাদের নামানো হবে। এছাড়া র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম নজরদারি করবে।