
গড়াইনিউজ২৪.কম:: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কীভাবে রাজনীতি করেন, সেটা বুঝে আসছে না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ক্ষমতাসীন দলের নেতার সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০'র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের সাজা বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে কথা বলছিলেন ফখরুল। আগের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য মানুষ কাঁদে না। মানুষ এখন নির্বাচন নিয়ে ভাবছে। আর ফখরুল বলেন, ‘গতকাল ওবায়দুল কাদের সাহেবের একটি মন্তব্যে আমি অবাক হয়েছি। তিনি মানুষের অবস্থা জানেন না। কীভাবে রাজনীতি করেন বুঝতে পারছি না। রাজনীতি সচেতন মানুষ কী করে এসব কথা বলেন?’ ‘উপলব্ধি যার আছে তার বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান নেই। খালেদা জিয়ার জন্য ঘরে ঘরে মানুষ রোজা রাখে, মহিলারা কান্নাকাটি করে। বেগম জিয়াকে একদিন জনগণ বের করে আনবে। কারাগার ভেঙেই বের করে আনবে।’ ‘রাজনীতিকে খালেদা মুক্ত করতে হবে’ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এমন বক্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া জানান ফখরুল। বলেন, ‘সরকার মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়নে সূদুরপ্রসারী নীল নকশা নিয়ে এগুচ্ছে। খালেদা জিয়াকেই শুধু না, তিনি যার সঙ্গে রাজনীতি করেন তাহলে তাকেও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে।’ ‘তথ্যমন্ত্রী সবসময় একটা কথা বলেন, তা হলো রাজনীতি থেকে খালেদা মুক্ত করতে হবে। খালেদা জিয়ার নামে চারটি মামলা আর শেখ হাসিনার নামে ছিল ১৫টি মামলা।’ ‘খালেদা জিয়ার অপরাধ একটাই, সেটা হলো তিনি গণতন্ত্রের কথা বলেন। মানুষের অধিকারের কথা বলেন।’ ৯০ এর মতো গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে হলে রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
‘আপনাদের আত্মহত্যা করা উচিত’
যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী বানানোয় বিএনপির সমালোচনায় বরাবর মুখর আওয়ামী লীগ। এই বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের পতাকা দিয়েছি। তো আপনারা কাকে পতাকা দিয়েছেন? আপনারা তো সবচেয়ে বেহায়া, বেইমানকে (এরশাদ) পতাকা দিয়েছেন। এটা তো আরও লজ্জার।’ সরকারকে পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা এমন জায়গায় চলে গেছেন যেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারবেন না। আপনারা চাইলেও আর জনগণের কাছে ফিরতে পারবেন না। আপনাদের তো এখন আত্মহত্যা করা উচিত।’
ইসি চালাচ্ছেন সচিব
সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদই নির্বাচন কমিশন চালাচ্ছেন বলে মনে করেন ফখরুল। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের না আছে যোগ্যতা, না আছে শক্তি। একজন সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ। তিনি কমিশনে অফিস করেন নির্দিষ্ট সময়। তারপর একটি নির্দিষ্ট দলের নির্দিষ্ট অফিসে যান, যার প্রধান এইচ টি ইমাম।’
দাবি আদায় হবেই
বিএনপির নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি বা চাপও সরকারের ওপর নেই। বিএনপির কোনো জোরাল কর্মসূচিও নেই ইদানীং। তবে ফখরুল মনে করেন, দাবি আদায়ে তারা অবশ্যই সফল হবেন। ‘দেশনেত্রীকে মুক্ত না করে আমরা নির্বাচনে যাব না। নির্বাচনের আগে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তবে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েন করতে হবে।’ নির্বাচনের ইস্যুতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
কোটা আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের ওপর ঢাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। ‘আমার মনে হলো আমরা কি আইয়ুব খানের দিকে ফিরে গেলাম? কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীরা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। একজনকে তো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অবস্থান এবং চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নিয়েও কথা বলেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ ৬০ বছর পেছনে ফিরে গেছে। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার বিদ্যাপীঠ সে বিদ্যাপীঠ আজকে মুক্তচিন্তা স্তব্ধ করে দিয়েছে। এর চেয়ে বেদনার কিছু হতে পারে না।’ ‘আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা যায় না। আদালত কুক্ষিগত করেছেন। প্রশাসন করায়ত্ব করেছেন। মানুষ এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’ ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আতিকুর জামান ছন্দ
কুষ্টিয়া অফিস: রহমান টাওয়ার (বি-৩), পুরাতন আলফার মোড়, দাদাপুর সড়ক, কুষ্টিয়া।
ঢাকা অফিস - ৫০/১ হাবিব সেন্টার (৯ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
মোবাইলঃ + ৮৮ ০১৭১৪-৫৪৬৬৭৩