
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়ায় এখন এমন এমন অপরাধ ঘটে যা মুহূর্তে পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে চলে যায়। কলঙ্ক লেপটে যায় এই মাটির সব গর্বিত সন্তানদের মুখে। মার্কিন ফ্রিলান্স সাংবাদিক এলিসন জয়েস কুষ্টিয়ায় তার পেশাগত কাজে এসে এক ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন এবার। তিনি উঠেছিলেন কুষ্টিয়ার ছয় রাস্তার মোড়ের একটি আবাসিক হোটেলে। হোটেলটির নাম ‘খেয়া’। বেশ অভিজাত ও আধুনিক এই হোটেলটি। সূত্র মতে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তা এবং পাঁচ রাস্তা মোড়ের মাঝে অবস্থিত আবাসিক বহুতল বিশিষ্ট ফ্লাট বাড়িতে গড়ে উঠা এই থ্রী ষ্টার মানের ‘খেয়া’ রেস্তোরা কোন অনুমতি ছাড়াই আবাসিক হিসেবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর অংশীদারিত্বে গড়ে উঠা ‘খেয়া’ রেস্তোরার সাথেই বেশ কয়েকটি রুমে আবাসিক সুবিধা রয়েছে। যা পার নাইট ৫০০০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযোগে জানা যায়- ব্যয়বহুল এই হোটেলের অংশীদারিত্বে থাকা অজয় সুরেকা ও বিশ্বনাথ সাহা বিশুসহ অন্যরা কোন অনুমতি ছাড়াই প্রতিদিন রাতে সেখানে বিলাসবহুল বিভিন্ন রুমে নারী ও মদের আড্ডা জমায়। শহরের নামী দামী ব্যবসায়ী এমনকি সরকারী কর্মকর্তাদেও আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে এসব আড্ডায়। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে অসামিজক কার্যকলাপ হয় বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক বললেন, বিশ্বনাথ সাহা বিশু ও তার চার পাঁচজন ব্যবসায়ী বন্ধু গত বছর ছয়রাস্তার মোড়ে ‘খেয়া রেস্তোঁরা’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট খুলেছেন। অন্য মালিকদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী অজয় সুরেখা, কামরুজ্জামানসহ আরো দুয়েকজন। রেস্টুরেন্ট এর সঙ্গেই রয়েছে চার কক্ষের একটি অভিজাত বিশ্রামাগার। আবাসিক হোটেল হিসেবে সেটির কোনো বৈধ অনুমোদন আছে কি-না তা জানা নেই। এই বিশ্রামাগারটি তারা মাঝে মাঝে ব্যবহার করেন বিদেশী ব্যবসায়ী মেহমান এর আবাসিক ব্যবস্থার কাজে। বাকি সময় নিজেদের আমোদ-প্রমোদ ও ভাড়া। ভাড়াও এক রাতের জন্য ৫ থেকে ছয় হাজার টাকা। ঠিক এই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের ঢল নেমেছে কুষ্টিয়ায়। হোটেলের কক্ষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন বাইরে থেকে যাওয়া অতিথিরা। কেউ কেউ হোটেল জায়গা পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে এক অনাকাঙ্খিত খবরে এক নেতিবাচক উপলব্ধি ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিকরা জানাচ্ছেন উদ্ভুত ঘটনার জন্য আইনি সাজা হোক দৃষ্টান্তমূলক। যার মধ্য দিয়ে পর্যটকের গুরুত্ব ও তাদের সঙ্গে আচরণের শিষ্টাচার সম্পর্কে অনেকেই সতর্ক হতে পারে। জানা যায়, ২০১৬ সালের শেষের দিকে গড়ে উঠা এই রেষ্টেুরেন্টটি অভিজাত পরিবারদের কাছে বেশ কদর পেয়েছিল। এদিকে জেলার সচেতন মহল কুষ্টিয়ার মত মফস্ব¬ল শহরের আবাসীক এলাকায় খেয়া রেস্তোরাটি বন্ধের দাবী জানিয়েছে। এই মহলটির দাবী অনুমোদনবিহীন আবাসীক থাকার পাশাপাশি এই রেস্তোরায় অনেকটা খোলামেলা ভাবে নারী ও বিদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ বিক্রি ও আড্ডা বসানো হয়। প্রায় প্রতি রাতেই এই রেস্তোরা থেকে মাতাল অবস্থায় বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ বের হয়। আর নারী আর মদ দিয়েই আয় কওে খেয়া রেস্তারা। আর এই নিয়ে স্থানীয়দের সাথে রেস্তোরা কর্তৃপক্ষের কয়েক দফা বাকবিদন্ডা হয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ সাহা বিশুর বিরুদ্ধে ইতিপুর্বে অনেক অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল কিন্তু প্রভাব প্রতিপত্তি আর অর্থের দ্বারা বার বার পার পেয়ে গেছেন তিনি। বিভিন্ন সময় সরকারদলীয় দলের ছত্রছায়ায় তার ক্ষমতা এবং দাম্ভিকতার কাছে প্রশাসনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ ছিল একেবারেই অসহায়। মদ্যপ অবস্থায় বিদেশী মহিলা নাগরিককে হেনেস্থা করার ঘটনায় সে এখন কারাবন্দি। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত কুষ্টিয়া শহরের আবাসিক হোটেলে বিদেশী নারীর উপর এধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঐ হোটেল কর্তপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে এই রেস্তোরা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আতিকুর জামান ছন্দ
কুষ্টিয়া অফিস: রহমান টাওয়ার (বি-৩), পুরাতন আলফার মোড়, দাদাপুর সড়ক, কুষ্টিয়া।
ঢাকা অফিস - ৫০/১ হাবিব সেন্টার (৯ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
মোবাইলঃ + ৮৮ ০১৭১৪-৫৪৬৬৭৩