
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়ার বটতৈলে রাজু আহমেদ বাঘা দিনমজুর থেকে আজ কোটিপতি! এমনই এক বাস্তব কাহিনীর গল্প তুলে ধরবো আপনাদের সামনে। ফকিরপতি থেকে রাতের আধারেই বটতৈল দিন মজুর কিতাবের ছেলে মাটিকাটা কাটা শ্রমিক রাজু আহমেদ বাঘা কোটিপতি বনে গেছে। যার এক ভাই এখনও ভ্যান চালিয়ে দিনপাত করে। তার এই হঠাৎ পরিবর্তনে এলাকার মানুষের মনে কৌতুহলের শেষ নেই। তার পূর্বের ইতিহাস থেকে জানা গেছে, বহুবার চুরি ছিনতাই ও ডাকাতির নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ধরা খেয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নুন আনতে পানতা ফুরায় যার, মাটি কেটে সংসারে পরিজন মিলে দুবেলা দুমুঠো ভাত জুগিয়ে যায় যে, সেই আজ আলিসান বাড়ি , চমকপ্রদ গাড়ী ও কোটি কোটি টাকার মালিক। অবিশ্যাস্য হলেও সত্য যে আরব্য উপন্যাসের আলিফ লাইলার আলাদ্দিনের সেই আশ্চার্য্য প্রদিপের মাধ্যমে রাতারাতি ফকিরপতি থেকে কোটি পতি হওয়ার বিষয়টি অনেকেরই জানা।
এত কিছুর পরেও কোন দূর্ণীতির সাথে জড়িয়ে কোটি টাকা কামিয়েছে তা একমাত্র দুদকই তদন্ত করে বের করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। খোঁজ খবরে জানা গেছে, বছর খানেক আগে নিজ এলাকাতেই মাটি কাটা ও বিক্রয়ের কাজ শুরু করে। তার এসব কাজের মধ্যে রয়েছে কারো পুকুর পুনঃখনন করা অথবা পাড় বাধায় করা। এ কাজের জন্য ১ হাজার সিপটিতে প্রতিদিন মুজিরি পেয়ে থাকে ৩৯০০-৪৩০০ টাকা পর্যন্ত। নিজে ঠিকায় কাজ নিয়ে পরে অন্য শ্রমিকদের দিয়ে এসব কাজ করায়। পরে নানা লাইন লবিং ধরে কুষ্টিয়া আনসার ক্যাম্পের পুকুর রিপেয়ারিং এর কাজ পায়, সেখানে সৎ কর্মকর্তা থাকায় এখানে তেমনটা সুবিধা করতে পারিনি বলে জানা যায়। এরপর শুরু হয় ঢাকা আনসার ক্যাম্পের কাজ নিয়ে, ঐ মাসেই শুরু করে তার গ্রামে আলিসান বাড়ি তৈরীর কাজ। মাঠে একের পর এক জমি কিনতে থাকে। ব্যাংকে রয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা । পুকুর কাটতে গিয়ে পুকুর চুরির মাধ্যমেই তার এই পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন আনসার ক্যাম্পের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা । তিনি জানান, ঠিকায় একলক্ষ সেপটির কাজ নিয়ে কচুরি পানা দিয়ে কোন রকমে ঠিক ঠাক করে ১০ হাজার সেপটি কাজ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঐ কর্মকর্তার সাথে অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়। এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে জামায়াতের একজন সক্রীয় নেতা ছিলো। পরে বটতৈলের এক আওয়ামী লীগ নেতার সাথে নিজের লেবাশ ঢেকে চলতে থাকে। জীবনের প্রথম ধাপে মাটি কাটার সর্দার হিসেবে কাজ করেছে। সংসার যখন অভাব অনটনে ভরা সেসময় বিভিন্ন সমিতি থেকে লোন তুলে কোন রকম জীবন পার করেছে।এরপর শুরু করে মাটি কাটা ও বিক্রয়ের কাজ। স্থানীয়রা জানান, বাঘার এক ভাই ভ্যান চালায় বাবা এখন দিন মজুরের কাজ করে। প্রায় বছরখানেক ধরে বাঘার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এলাকাতে ৩ তলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি করছে এটা করতেও ওর ৩০ লক্ষ টাকার বেশী খরচ হয়েছে। আমাদের মনে হয় বাঘা কোন চোরাকারবারি চক্র অথবা কোন অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এ বিষয়ে রাজু আহমেদ বাঘার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি বহু দিন ধরে মাটির ব্যবসা করি , মাসে ৪/৫ লক্ষ টাকা কামায় করি। আর আমার বাড়ি করতে মাত্র ৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আপনাদের হয়ত কেউ ভুল ভাল তথ্য দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আতিকুর জামান ছন্দ
কুষ্টিয়া অফিস: রহমান টাওয়ার (বি-৩), পুরাতন আলফার মোড়, দাদাপুর সড়ক, কুষ্টিয়া।
ঢাকা অফিস - ৫০/১ হাবিব সেন্টার (৯ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
মোবাইলঃ + ৮৮ ০১৭১৪-৫৪৬৬৭৩