প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২, ২০২৬, ৪:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
কর্মব্যস্ত নগরী রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ

গড়াইনিউজ২৪.কম:: পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মব্যস্ত নগরী রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ঈদুল আজহার নির্ধারিত ছুটি। সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে পুরোদমে। ফলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নেমেছে কর্মব্যস্ত মানুষের ঢল। রবিবার সকালে রাজধানীর সদরঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। ঈদ শেষে রাজধানীতে ফেরা নদীপথের ৪১টি রুটের যাত্রীদের আগমনে সকাল থেকে সদরঘাট যেন পরিণত হয়েছে জনস্রোতে। আর সেই চাপ সামলাতে অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে সদরঘাটে কর্মরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, গত কয়েকদিনের চেয়ে রবিবার সদরঘাটে আসা যাত্রীদের ভিড় অনেক বেশি ছিলো। শুধু তাই নয়, এই চাপ সামলাতে অনেকটাই নাজেহাল হতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া রাজধানীমুখী কর্মব্যস্ত যাত্রীরা যেন কোনো চক্রের বেড়াজালে না পড়ে সেজন্য কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। লঞ্চ টার্মিনালে সূত্র জানায়, ভোর চারটা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত টার্মিনালে ভিড়েছে ১শ’ ৩৬টি লঞ্চ। আর ঘাট থেকে ছেড়ে গেছে ১৩টি লঞ্চ। কথা হয় চাঁদপুর থেকে আসা লঞ্চযাত্রী ব্যাংক কর্মকর্তা হুমায়রা আসমার সঙ্গে। তিনি বলেন, শনিবার আসার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কেবিনের টিকিট না পাওয়ায় তাকে রবিবার আসতে হয়েছে। তাই বাসায় গিয়ে কোনো রকম জরুরি কাজ সেরেই ছুটতে হবে অফিসে। নৌপথে আসতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৮শ’ টাকার কেবিন ভাড়া নিতে হয়েছে ১ হাজার ৫শ’ টাকায়। এর চেয়ে বিড়ম্বনা আর কি হতে পারে? তারপরও আমাদের ভাড়া নিতে হয়েছে। কারণ ভাড়া যতই বেশিই নেওয়া হোক না কেন আমাদের তো ফিরতেই হবে।
বরিশাল থেকে আসা চাকরিজীবী শফিক আহম্মেদ বলেন, ঈদের সময় শত কষ্ট হলেও সবাইকে বাড়িতে যেতে হয়। কিন্তু পথি মধ্যে আমাদেরকে পড়তে হয় অনেক বিড়ম্বনায়। শুধু তাই নয় অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমাদেরকে নাড়ির টানে ঘরমুখো হতে হয়। একদিকে লাগামহীন ভাড়া আদায় অন্যদিকে নৌপথে নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রা করা। এটা মেনে নেওয়া যায় না। লাগামহীন ভাড়া ও নিরাপত্তাহীনতা বলতে কি বোঝাতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরিশাল থেকে আমি এসেছি। কিন্তু লঞ্চটিতে যাত্রীর যে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রী নেওয়া হয়েছে। ফলে যে কোনো সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। আর এ বিষয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে কিছু বললেই তারা বলেন, আপনার সমস্যা হলে নেমে যান। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। নিয়মনীতি মানছে না লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ যাত্রী সংস্থার চেয়ারম্যান মাহবুব উদ্দিন বলেন, কোনো নৌ-যান নিয়মের বাইরে নয়। সবাইকে নিয়ম মেনেই যাত্রা করতে হয়। তবে যদি কোনো লঞ্চ নিয়মের বাইরে কিছু করে তাহলে সেসব লঞ্চের যাত্রা বাতিলসহ জরিমানা করা হয়। এরপর ঈদের সময় কিছুটা অনিয়ম হয়েই থাকে। তবে অতিরিক্তি কোনো কিছু মেনে নেওয়া হবে না।
সদরঘাট নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (বিআইডব্লিউটিএ) জয়নাল আবেদিন বলেন, রবিবার থেকে সমস্ত অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ায় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। এছাড়া অনেক যাত্রী অভিযোগ করছেন বেশি ভাড়া আদায়সহ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌ-যানগুলো যাত্রা করেছে। আমরা সেইসব নৌযানগুলো খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আতিকুর জামান ছন্দ
কুষ্টিয়া অফিস: রহমান টাওয়ার (বি-৩), পুরাতন আলফার মোড়, দাদাপুর সড়ক, কুষ্টিয়া।
ঢাকা অফিস - ৫০/১ হাবিব সেন্টার (৯ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
মোবাইলঃ + ৮৮ ০১৭১৪-৫৪৬৬৭৩
Copyright © Goraynews24.com all rights reserved.- 2024