
ঢাকা অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর ডেঙ্গুর প্রসঙ্গ অনেকটাই চাপা থেকেছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ এ বছর বেড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু ঘটেনি। তবে ঘটতে পারে। এ আশঙ্কা দানা বাঁধতে শুরু করেছে ২৭ এপ্রিলের পর থেকে। ওই দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা ঢাকা শহরের মশা জরিপের তথ্য প্রকাশ করে।
করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর ডেঙ্গুর প্রসঙ্গ অনেকটাই চাপা থেকেছে। সংবাদ সম্মেলন করে মশা জরিপের তথ্য তুলে ধরার পর ডেঙ্গুর বিষয়টি মানুষের সামনে এসেছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ দেশে বড় আকারে দেখা দেয় ২০০০ সালে। ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন আক্রান্ত হয়, মৃত্যু হয় ৯৩ জনের। কিন্তু তার চেয়েও ডেঙ্গু ভয়াবহ আকারে দেখা দেয় ২০১৯ সালে। সরকারি হিসাবে ওই বছর ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্ত হয়। মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। ইতিহাসে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই বছর।
ঠিক পরের বছর শুরু হয় করোনা মহামারি। ডেঙ্গুর প্রকোপ কম হতে দেখা যায়, মৃত্যুও ছিল কম। ২০২০ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জন। মৃত্যু হয়েছিল ৭ জনের। হঠাৎ ডেঙ্গু কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে অনেকে বলেছিলেন যে একই সময়ে দুটি ভাইরাস প্রবলভাবে উপস্থিত থাকতে পারে না। করোনার প্রবল উপস্থিতির কারণে ডেঙ্গুর উপস্থিতি দুর্বল ছিল।
পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে করোনা মহামারি শেষ হয়ে যায়নি, কিন্তু ডেঙ্গু প্রবলভাবে ফিরে আসে। ওই বছর ২৮ হাজার ২৬৫ জন আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ১০৫ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যু—দুই–ই ছিল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। যদিও এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
মানুষ মহামারির ভয়–শঙ্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। করোনা সংক্রমণ কম হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এরই মধ্যে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলে অস্বস্তি অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে গত দুই বছরের মধ্যে মশা নির্মূলে টেকসই উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। মানুষকে সচেতন করার কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আতিকুর জামান ছন্দ
কুষ্টিয়া অফিস: রহমান টাওয়ার (বি-৩), পুরাতন আলফার মোড়, দাদাপুর সড়ক, কুষ্টিয়া।
ঢাকা অফিস - ৫০/১ হাবিব সেন্টার (৯ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
মোবাইলঃ + ৮৮ ০১৭১৪-৫৪৬৬৭৩