‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী

0
304

গড়াই নিউজ২৪.কম :: বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাপক সফলতার জন্য ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন অ্যান্ড ইমুনাইজেশন (জিএভিআই) এ পুরস্কার দেয়। পুরস্কারটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দেশবাসীর প্রতি উৎসর্গ করেছেন। গতকাল সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ইমিউনাইজেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন-জিএভিআই বোর্ড সভাপতি ড. এনগোজি অকোনজো ইবিলা এবং সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেথ ফ্রাংকলিন বার্ক্লে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাক্সিনেশনের জন্য বাংলাদেশের কঠোর পরিশ্রম আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সুস্থ ও নতুন প্রজন্ম দরকার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিয়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা অধীনে ইমুনাইজেশনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সুস্থ ও নতুন প্রজন্ম দরকার। ২০৩০ সালের অনেক আগেই বাংলাদেশে সকলের জন্য ভ্যাকসিনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।’ ইমুনাইজেশনকে স্বাস্থ্যখাতে সরকারিভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্যগাথা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স এবং অন্যান্য অংশীদারদের তাদের অব্যাহত সমর্থন ও অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা সব পর্যায়ে অন্যান্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে ইমুনাইজেশনকে সমন্বিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বর্ণনা দেন। বাংলাদেশের কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাখাইন থেকে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিরাট ঝুঁকি তৈরি করেছে। ২ রুটিন ভ্যাক্সিনেশন ও ইমুনাইজেশনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ এছাড়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডিপথেরিয়া, কলেরা এবং এ ধরনের রোগ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেই লক্ষ্যে সফলভাবে ভ্যাক্সিনেশন পরিচালনা করা হয় বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জিএভিআই এর সর্বশেষ জরুরি এবং শরণার্থী নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৭ সালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।’ প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে জনগণের প্রতি তার সরকার সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ প্রসঙ্গে তিনি, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকার সকলের মৌলিক স্বাস্থ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সক্ষম হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন ও ইমিউনাইজেশনের (জিএভিআই) বোর্ড সভাপতি ড. এনগোজি অকোনজো ইবিলা এবং সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সেথ ফ্রাংকিলন বার্ক্লে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আট দিনের সরকারি সফরের লক্ষ্যে গত শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে একদিনের যাত্রাবিরতির শেষে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। ইউএনজিএ ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে আট দিনের সফর শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন। তিনি আবুধাবি হয়ে ঢাকায় পৌঁছাবেন। ১ অক্টোবর ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ