নবীনগরে সরকারি খাল ভরাট করে একাধিক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ!

0
307

গড়াই নিউজ২৪.কম :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে একাধিক বাড়ি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী লিখিত আবেদন করেছেন জেলা প্রশাসকের কাছে। ওই আবেদনের অনুলিপি নবীনগরের ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও ওসিকেও প্রদান করা হয়েছে। প্রাপ্ত ওই লিখিত অভিযোগ ও সরজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিয়ারা গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ফিরোজ মেম্বারের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাচীন সরকারি খালটি গ্রামের কিছু লোক মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে বাড়ি তৈরি করেন। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খালের আশ-পাশে প্রচণ্ড জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া খালটি ভরাট হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে পাশের টিয়ারা আয়েশা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণটি পানিতে তলিয়ে যায়। সরজমিনে দেখা যায়, ওই খালের ওপর নির্মিত একটি ব্রিজের নীচে এমনভাবে মাটি ফেলে খালটি ভরাট করা হয়েছে, যার কারণে ওই ব্রিজটি এখন আর কোনো কাজেই আসছে না। মাটি ভরাট করে খালের সামনে একাধিক বাড়ি তৈরি করা বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কেউ সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের মতে গ্রামের কিছু লোক সরকারি ওই খালটি ভরাট করেন। যার ফলে আশ-পাশের এলাকা ও টিয়ারা হাইস্কুলসহ টিয়ারা ভাতুরিয়া সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নীচ তলিয়ে যায়। আর এতে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ বিষয়ে টিয়ারা টিয়ারা হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আবেদনকারীদের অন্যতম কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের দু্ই প্রভাবশালী জাকির হোসেন মহাজন ও ইমাম হোসেন মহাজন দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের আবাদি কৃষি জমি অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে কেটে সেই মাটি গ্রামের মানুষের কাছে বিক্রি করে ব্যবসা করছেন। আর একটি চিহ্নিত মহলের সহযোগিতায় সেই মাটি কিনে খাল সংলগ্ন বাড়ির মালিকরা তাদের বাড়ির জায়গার পরিমাণ বাড়াতে সরকারি খালটি সম্পূর্ণ ভরাট করেন।’তবে জাকির হোসেন মহাজন বলেন, ‘আমরা নিজেদের জমি কেটে মাটি মানুষের কাছে বিক্রি করি। এখন কেউ যদি আমাদের কাছ থেকে মাটি কিনে খাল ভরাট করে সেখানে আমাদের কি করার আছে? তবে খালের সামনের নিচু জায়গায় মাটি ফেলা হয়েছে, খালে নয়।’ বিটঘর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘পানি চলাচলের জন্য খালের নিচে পাইপ বসিয়েই সেখানে মাটি ফেলা হয়েছে। যাতে পানি চলাচলে কোন সমস্যা না হয়। তবে মাটি ভরাটের সময় আমি বাধাও দিয়েছি। কিন্তু বাড়ির মালিকেরা বলেছেন, প্রয়োজনে ভরাট হওয়া মাটি সরিয়ে ফেলা হবে।’নবীনগরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম আজ শনিবার গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আবেদনটি এখনও আমার হাতে আসেনি। পেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ