বিদ্যালয়ে দান করা জমি দখলের অভিযোগ

0
454

গড়াই নিউজ ২৪.কম:: চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার সাহাপুরে বিদ্যালয়ের জন্য দানকৃত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে ভূমিদাতার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দখলকৃত ভূমি উদ্ধারে ইতিমধ্যে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জানা যায়, শাহরাস্তি পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের সাহাপুর গ্রামে প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগণের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে আশির দশকে বেইসের (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি এডুকেশন) উদ্যোগে সাবেক সচিব মরহুম ড. এমএ সাত্তার সাহাপুর পরিপূরক বিদ্যালয় নামে একটি শিশু শিক্ষালয় স্থাপন করেন। স্থানীয় লোকজন এ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে এগিয়ে এলে ওই গ্রামের রায় চৌধুরী বাড়ির প্রয়াত নরেশ রায় চৌধুরী বিদ্যালয়কে সাহাপুর মৌজায় ৫৬৯ দাগে ২১ শতাংশ জমি দান করেন। তার এ মহতী উদ্যোগে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ে। ড. এমএ সাত্তারের মৃত্যুর কয়েক দশক পেরিয়ে যেতেই বেইসের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জীর্ণ স্কুল ঘরের পাশেই খেলার মাঠটি এ অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের একমাত্র বিনোদনের জায়গায় পরিণত হয়। সম্প্রতি স্থানীয় যুবকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘আলোকিত সাহাপুর’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি সংস্কার ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ খবর চাউর হতেই বিদ্যালয়ের ভূমিদাতার ছেলে ও বিদ্যালয়ের সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের সেক্রেটারি ইন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী প্রকাশ টুটুন চৌধুরী বিদ্যালয়ের মাঠে গাছ রোপণ ও সীমানায় বাঁশের বেড়া দেন। স্থানীয়রা কারণ জানতে চাইলে তিনি দানকৃত জায়গা শিক্ষা কার্যক্রমে না লাগায় নিজেদের জায়গা নিজে আবাদ করছেন বলে জানান। এলাকার যুবক ফজলে রাব্বি মনির পাটোয়ারী জানান, ‘এ বিদ্যালয়ে আমার হাতেখড়ি। আলোকিত সাহাপুর নামক সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে নতুন করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ হওয়ার পর জায়গা দখলের ঘটনা বিদ্যালয়টি যাতে চালু না হয় সে জন্য ঘটানো হয়েছে। পিতা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দিয়েছেন আর তার ছেলে সে জায়গা দখল করছেন এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার পথ বন্ধ করতে।এলাকাবাসী ইতিমধ্যে গণস্বাক্ষর দিয়েছেন, আমরা এ হীন কাজের প্রতিবাদে আইনিভাবে অগ্রসর হওয়ার চিন্তা করছি।’ ইন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী প্রকাশ টুটুন চৌধুরীর জানান, ‘ড. সাত্তার সাহেবের অনুরোধে আমার বাবা বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য জায়গা দিয়েছিলেন। যে কয়দিন বিদ্যালয় চলবে ততদিন জায়গা বিদ্যালয়ের থাকবে, বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের জায়গা আমরা নিয়ে নেব এমন মৌখিক কথাতেই আমার বাবা ভূমিদান করেছেন। যার কোনো দলিলও হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমার সম্পত্তি আমি নিয়ে নিয়েছি। যদি বেইস চায় তাহলে আমি জায়গা ফেরত দেব।’ বেইস পরিচালিত পঞ্চগ্রাম ড. শামছুল হক গণবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মাসুম ইকবাল জানান, ‘আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ভূমি দখলমুক্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কাজী নূরুল আলম জানান, জায়গাটি সাহাপুর পরিপূরক বিদ্যালয়ের নামে বিএস খতিয়ানভুক্ত। বিদ্যালয় না চললে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিপূরক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ব্যক্তিগতভাবে কারও জমি দখলের এখতিয়ার নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ