পুলিশের কব্জায় : হৃদয়

0
347

গড়াই নিউজ ২৪.কম:: রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা গুজবে তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪২) পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হৃদয় উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানে সবজি বিক্রি করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইস্ট ডিভিশনের ডেমরা জোনাল টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নাজমুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হৃদয় যে পোশাক পরে রেনুকে পিটিয়ে খুন করেছিল, সেটা উদ্ধার করতে অভিযান চলছে।’ গত শনিবার উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় রেনুকে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তিনি তার মেয়েকে ভর্তির তথ্য জানতে স্কুলটিতে গিয়েছিলেন। নাজমুল হাসান ফিরোজ জানান, নারায়ণগঞ্জের ভুলতা মাঝিপাড়া গ্রামে অবস্থিত হৃদয়ের ছোটখালা খালেদার বাড়ি থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, ‘হৃদয় বাড্ডার ওই স্কুলের সামনের সবজি বিক্রেতা। তার বাসা বাড্ডার হাজিপাড়ার হাসান আলী রোডে। তার বাবার নাম হারুনুর রশিদ ওরফে পাগলা হারুন। ঘটনার সময় তার পরিহিত পোশাক উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। নারায়ণগঞ্জের নাওরা নামক গ্রামে ফুপুর বাড়িতে পোশাক আছে বলে সে জানিয়েছে।’ এর আগে গতকালই বিকেলে হৃদয় সন্দেহে শাহবাগ থানা পুলিশ গুলিস্তান এলাকা থেকে এক যুবককে আটক করে বাড্ডা থানায় হস্তান্তর করে। পরে যাচাইবাছাই শেষে তাকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।মর্মান্তিক ওই ঘটনায় রেনুর বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন টিটো বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় হৃদয়ের আগে গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে জাফর নামে একজন গত সোমবার বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া শাহীন (৩১), বাচ্চু মিয়া (২৮) ও বাপ্পী (২১) নামে তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেন জানান। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও কামাল হোসেন (৪০)। গ্রেপ্তার সবাই উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা।

একটি উত্তর ত্যাগ