বাড়ছে কিশোর অপরাধ,ডিসকো বয়েজ গ্যাং থেকে জিরো জিরো সেভেন গ্যাং,নেই নজরদারি

0
116

গড়াই নিউজ২৪.কম: ছোট থেকে বড়ো।ছিনতাই থেকে খুনখারাবি।নানা অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা।গড়ে তুলছে নিজস্ব গ্যাং।নামও দিচ্ছে প্রভাবিত হয়ে যে বোঝাই যায় জেমসবন্ডের ‘জিরো জিরো সেভেন’ এর নকলে বরগুণার রিফাত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নয়ন বন্ডের গ্রুপের নাম দেখলে।নিজের নামের শেষেও বন্ড লাগাতে ভুল করেনি সে।কিশোরদের যে অংশ অপরাধে জড়াচ্ছে দেখা গেছে তাদের প্রায়ই সবাই মাদকাসক্ত।নয়ন বন্ড নিজেও মাদকের ব্যবসা করতো ও সেবন করতো।নয়ন কিশোর বয়সেই গড়ে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে।২০১৪ সালে ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নাখালপাড়ায় খুন হন এক নওরিন নামের এক তরুণী।এই তরুণীকে কুনের অভিযোগে সুমন গ্রেফতার হলে সে জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিল যে প্রেমের কারণে খুন করেছিল এবং নওরিন তার বন্ধু । তারা একসাথে মাদক সেবন করতো। সুমন ছিলো ‘ডিসকো বয়েজ গ্যাং’ এর প্রধান। রাজধানীর উত্তরায় কিশোর ‘গ্যাং গ্রুপ’এর হাতে ট্রাস্ট স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবীর কুন হয় ২০১৭সালের ৬ জানুয়ারি।এর ঠিক একবছর দশদিন পর ২০১৮সালের ১৬ জানুয়ারি চট্রগ্রাম শহরের জামাল খানে খুন হয় আরেক আদনান।আদনান খুনের একবছর চারমাসের মাথায় ফের খুন হয় ‘কিশোর গ্যাং গ্রুপের’ শিকার লোকমান হোসেন রনি।লোকমানের নেতৃত্বে একদল কিশোর নিয়মিত নগরীর গোলপাহাড় এলাকায় আড্ডা দিতো ও মাদকসেবন করতো। চলতিবছরের গত ১৫ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পাশে আরিফ হোসেন নামে এক কিশোর খুন হয়। এই খুনের পেছনে ছিল ‘মাফিয়া গ্যাং’ নামের চার কিশোর সদস্য। এর আট দিন পর রাজধানীর চানখারপুলে আরেক কিশোর গ্যাংয়ের হাতে সিজান নামের এক কিশোর খুন হয়। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ ও সাভারে তিন কিশোর রিকশাচালকের হাতে খুন হয় দুই রিকশাচালক।পরে তিনজনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়।অল্প সময় বড়লোক হওয়ার আশায় তারা এই কাজ করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়।সারাদেশে কিশোর অপরাধীদের গ্যাং গ্রুপের নামও অভিনব।যেমন,নাইন স্টার, ডিস্কো বয়েজ, বিগ বস ইত্যাদি।উত্তরার নাইন স্টার ও ডিস্কো বয়েজ নামের গ্যাং দুটির গডফাদারেরও সন্ধান মিলেছে। তাদের নামেও রয়েছে মামলা, গ্রেপ্তার এবং জামিনের খবরও। পুলিশের তথ্য অনুযাযী, এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত কয়েক মাসে সংঘাত-সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে পাঁচটি। এরমধ্যে তিনটি মারামারি, একটি ছুরিকাঘাত এবং একটি খুনের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শেখ তৌহীদুল ইসলাম বলেন,‘কিশোর অপরাধীদের মধ্যে এখন তিনটি শ্রেণি রয়েছে। এর মধ্যে বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের কিশোরেরা দারিদ্র্যের কারণে, মফস্বল থেকে বড় শহরে আসা কিশোররা সমাজে টিকে থাকার জন্য এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অপরাধে জড়াচ্ছে।নেই কোনো নজরদারি।’ মনোচিকিৎসক মোহিত কামাল বলেন, ‘ এ বয়সটা আসলে যে কোনো কিছু দ্বারাই দ্রুত প্রভাবিত হওয়ার বয়স। নয়ন বন্ডের আসল নাম সাব্বির। সে নামের পেছনে বন্ড লাগালো এবং ০০৯ গ্রুপ তৈরি করল। এদিয়েই বোঝা যায় সে জেমসবন্ড দ্বারা প্রভাবিত।এদের মধ্যে এক ধরণের নেগেটিভ রোমান্টিসম কাজ করে।তাই তারা ভাল স্কুলিং না পেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ