প্রশ্ন ফাঁসের ‘১২ কারণ’, রোধে ১৫ উদ্যোগ

0
474

গড়াইনিউজ২৪.কম:: প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে সম্ভাব্য ১২টি কারণ চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এগুলোকে প্রশ্নফাঁসের ‘ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত হয়েছে। এসব ‘ঝুঁকি’ এড়িয়ে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে ১৫টি উদ্যোগও গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। রাজশাহী বিভাগের সব জেলার প্রশাসক (ডিসি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক উপস্থাপনায় তিনি এই সম্ভাব্য কারণ ও গৃহিত উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এই মতবিনিময় করেন জাবেদ আহমেদ। সোমবার সকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সভাটি হয়। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সহায়তায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এর আয়োজন করে।

অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ প্রশ্নফাঁসের যে ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন তার মধ্যে রয়েছে: বিজি প্রেসে বিভিন্ন ধাপে ২৫০ জন ব্যক্তির প্রশ্ন দেখার সুযোগ, নিরাপত্তা হেফাজত থেকে অগ্রিম প্রশ্ন নেওয়া, প্রশ্ন নেওয়ার সময় ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতি, নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্যাকেট খোলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গ।

এছাড়া প্যাকেট খোলার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তার স্বাক্ষর গ্রহণ না করা, মুঠোফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার, দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা, ফাঁসকারীদের শাস্তি না হওয়া এবং পরীক্ষা ও আইসিটি সংশ্লিষ্টদের আইনের কঠোর প্রয়োগ না করা প্রশ্নফাঁসের জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়।

জাবেদ আহমেদ জানান, ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে প্রশ্নফাঁস রোধ করতে তারা যে ১৫টি উদ্যোগ নিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে: প্রশ্ন সেটিং, মডারেটর ও লটারিতে সতর্কতা; বিজি প্রেসের সংশ্লিষ্টদের গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা, বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন জেলা ট্রেজারিতে পাঠানো, সেটভিত্তিক একই বিষয়ের প্রশ্ন একটি খামে রাখা, ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন ডিসির তত্বাবধানে ইউএনও এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গ্রহণ।

এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ, নিরাপত্তা হেফাজত থেকে ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে কেন্দ্র সচিবের প্রশ্ন গ্রহণ, ২৫ মিনিট আগে সেট ঘোষণা, পুলিশ পাহারায় প্রশ্ন পরিবহন, ট্যাগ অফিসার, কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের উপস্থিতিতে প্যাকেট খোলা এবং কক্ষওয়ারি প্রশ্ন বণ্টন।

জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস রোধে অন্য উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি নিরাপত্তা হেফাজত থেকে প্রশ্ন গ্রহণ থেকে শুরু করে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বন্ধে বিটিসিএল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

এর বাইরে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এই ১৫টি উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই জাতীয় স্বার্থে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ।

জাবেদ বলেন, ‘সবাই বলে- তারা প্রশ্নফাঁস রোধ করতে পারবেন। শুধু পারবেন না মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। প্রশ্নফাঁসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জড়িত আছেন বলে মানুষ মনে করে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস বন্ধে মন্ত্রণালয় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক জায়গায় এখনও শুধু বিশ্বাসের ওপর প্রশ্ন ছেড়ে দিতে হয়। ওই জায়গাগুলোতে সচেতনতা ও সহযোগিতা না থাকলে প্রশ্নফাঁস রোধ করা কঠিন।’

‘পরীক্ষার সময় ফেসবুক-ইন্টারনেট বন্ধ রাখার জন্য আমরা বিটিসিএলকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। তাই আমরা সেই জায়গা থেকে সরে এসেছি। এখন কঠোর আইনপ্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসকারীদের কঠোর শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।’
সভায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং কেন্দ্রসচিবরা প্রশ্নফাঁস রোধে নিজেদের নানা পরামর্শ তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রশ্ন পরিবহন, সংরক্ষণ এবং পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে মুখোমুখি হওয়া নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তারা। অতিরিক্ত সচিব এ ব্যাপারে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান।
বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সচিব তরুণ কুমার সরকার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নিশারুল আরিফ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার তানভীর হায়দার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গড়াইনিউজ২৪.কম/মিরাজুল ইসলাম

একটি উত্তর ত্যাগ