সংসদে বিরোধী দলে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

0
506

গড়াইনিউজ২৪.কম: : সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মতে, গণতন্ত্রের চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ তার দলের নেতারা। দশম সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে সংসদ নেত্রী এ কথা বলেন। সমাপনী ভাষণে সংসদে বিরোধী দলের প্রশংসা করলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের একটা চর্চা যে সুষ্ঠুভাবে করা যায়, আমাদের বর্তমান বিরোধীদলের নেতাসহ বিরোধীদলীয় নেতারা সেটা করে সেই সহনশীলতা দেখিয়েছেন, গণতন্ত্রের চর্চাটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তত আমাদের এই পার্লামেন্টে খিস্তি খেউর নেই, এখানে নোংরা ভাষা নেই, এখানে সেই হাত পা ছুড়াছুড়ি নাই, চেয়ার ভাঙা নাই, মাইক ভাঙা নাই, ফোল্ডার ভাঙা নাই। এ জন্য আমি বিরোধীদলীয় নেতা ও নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দলটি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। যে দল দুর্নীতিকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে সে দল জনগণের কল্যাণে কী কাজ করতে পারবে।’ ‘সে দল লুটপাট করতে পারবে, মানুষ খুন করতে পারবে। কিন্তু মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারবে না। এটা হলো বাস্তবতা।’ হঠাৎ করেই বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারাটির পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রীর যে সাজা হবে সেটা বিএনপি আগেই টের পেয়েছে কি-না জানি না। না হলে কোনো ফৌজদারী দণ্ডবিধিতে অভিযুক্ত আসামি দলের কোনো পদে থাকতে পারবেন না সংক্রান্ত ৭ ধারাটি তারা খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পূর্বেই সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। সেই মোতাবেক তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত হলেও যে কেউ দলের পদে থাকতে পারবে। অর্থাৎ দুর্নীতিকেই তারা গ্রহণ করে নিল।’ শেখ হাসিনা এ সময় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, আজকে বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেসব মামলা দিয়েছে সেই একই মামলা তার বিরুদ্ধেও দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সমস্ত অ্রাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছিল এবং কাগজপত্র নিয়ে পরীক্ষা করেছে। সরকার প্রধান বলেন, তারা এই ট্রাস্ট থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য যে বৃত্তি দেন সে সমস্ত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছে। সত্যিই বৃত্তির টাকা প্রদান করা হয় কি না, সকল কাগজপত্র পরীক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই তারা এইভাবে চেষ্টা করেছে এখানে এতটুকু ফাঁক পায় কি না। শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে কিছুই তারা পায়নি। কিন্তু তারা সর্বনাশ করেছিল বরাদ্দ বন্ধ করে রাখায় বৃত্তির টাকা প্রদান করা যায়নি। বর্তমানে এই ট্রাস্ট থেকে ১৮শ’ জনকে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে এবং সেই সময় প্রায় ১২শ’শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আহতদের সাহায্য করা হচ্ছিল। এই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে রাখাতে অনেক ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।

গড়াইনিউজ২৪.কম/মিরাজুল ইসলাম

একটি উত্তর ত্যাগ