শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীতে বন্যা ৫৫৪ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিত

0
1153

গড়াইনিউজ২৪: শরীয়তপুরে বন্যার পানিতে ৯০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলোর ১১০টি বিদ্যালয়ের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বন্যার কারণে জেলার তিনটি উপজেলার ৩৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে বন্যার কারণে রাজবাড়ীর সদর ও গেয়ালন্দ উপজেলার ১৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মার পানি বাড়ায় গত ২৮ জুলাই থেকে শরীয়তপুরের বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানি ঢুকতে থাকে। বন্যার পানি বিদ্যালয়ের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে ঢোকার কারণে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ৭১টি, নড়িয়ার ২২টি, সদর উপজেলার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে নড়িয়ার দুটি ও জাজিরার পাঁচটি উচ্চবিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ওঠায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে গত বুধবার দেওয়া নির্দেশে নড়িয়া, জাজিরা ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৩৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার ১৫টি প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোতে আসার সড়ক, বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে গেছে। কক্ষের ভেতরের আসবাবগুলো পানিতে নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ রয়েছে।
নড়িয়ার চর নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়টির মাঠ ও শ্রেণিকক্ষগুলো এক সপ্তাহ যাবৎ পানির নিচে। বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে। নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় ভবনটি ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছি।’
সদর উপজেলার পৌর এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের শরীয়তপুর সদর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আয়শা আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের আশপাশের সব এলাকা পানির নিচে। অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক শিশু পানির মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে আসছে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়টি খোলা রাখা হয়েছে। এখন জানতে পারলাম পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’
নড়িয়ার কেদারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর সাঈদ বলেন, বিদ্যালয়ে আসার সব সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এক সপ্তাহ যাবৎ বিদ্যালয়ের মাঠে পানি। শ্রেণিকক্ষে পানি ওঠায় বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বন্যায় গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকেছে। এ কারণে ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার কারণে তিন উপজেলার ৩৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তদারকিতে বন্যার পর এসব বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ীতে বন্যার পানিতে বিদ্যালয় প্লাবিত হওয়ায় সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার ১৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার ১৩৫ ও গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। পানি কমার পর এই দুটি উপজেলায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে বন্যার পানিতে বিভিন্ন বিদ্যালয় প্লাবিত হতে থাকে। ইতিমধ্যে সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার ৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ