কুষ্টিয়ার বানিয়াপাড়ায় শোয়েব আলীর রমরমা ইয়াবার ব্যবসা!

0
1933

আশরাফুল হক টিপু, কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়তে এখনও সক্রিয় রয়েছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী। নির্বিঘেœ অবাধে বিক্রি করে চলেছে বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্য। মনে হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে বলার যেমন কেউ নেই, দেখার জন্যেও যেন কেউ নেই। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কিছু মাদকসেবীদের আটক করলেও মূল মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করছে না। সম্প্রতি পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হলেও সিরাজ বাঘের ছেলে মাদক সম্রাট শোয়েব আলীর ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা থেমে নেই। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এসব মাদক ব্যবসায়ীদের আটকের ব্যাপারে সহযোগিতা করলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। বিধায় কুষ্টিয়ার বানিয়াপাড়াতে পূর্বে মাদক ব্যবসার যে চেহারা ছিল, সে চেহারাই রয়ে গেছে। যার কারণে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়াচ্ছে, ধাবিত হচ্ছে অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর দিকে। এমনটি অভিযোগ এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের। আর পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, আমরা মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবীদের আটক করে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাচ্ছি, পরে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে। এলাকাবাসী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি জানান, বানিয়াপাড়া মজিবর বাঘের জমির উপর বাশের ঝাড়ের পাশে বসে ইয়াবা বিক্রি করে শোয়েব। বাশের ঝাড়ের পাশে রাত দিন বিক্রি করছে হেরোইন ও ইয়াবা এবং সেই সাথে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে স্থানীয় চেয়্যারম্যানের বাড়ির পাশে জমজমাট জুয়ার আসর ও মাদক সেবীদের আড্ডা। সূত্র মতে জানা যায়, এই মাদক ব্যবসায়ী শোয়েব মোবাইল ফোনের আশির্বাদে মাদক সেবীদের সাথে যোগাযোগ করে নির্ধারিত স্থানে পৌছে দিচ্ছে মাদক। আর এই মাদকের টাকা যোগাড় করতে মাদক সেবীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে এলাকায় ঘটাচ্ছে চুরিসহ অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনা। পরিবেশ হচ্ছে নষ্ট । অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের নিয়ে রয়েছে চিন্তিত। কারন ইয়াবার আছে প্রচুর উত্তেজক-ক্ষমতা এবং তা অনেকক্ষণ থাকে বলে কোকেনের চেয়ে অ্যাডিক্টরা এটা বেশি পছন্দ করে। ইয়াবা খেলে সাময়িক আনন্দ ও উত্তেজনা, অনিদ্রা, খিটখিটে ভাব ও আগ্রাসী প্রবণতা বা মারামারি করার ইচ্ছা, ক্ষুধা কমে যাওয়া ও বমি ভাব, ঘাম, কান-মুখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শারীরিক চাহিদা বেড়ে যায়। তবে এ সবই অল্প কয়েক দিনের জন্যও। কিছুদিন পর থেকেই ইয়াবাসেবীর হাত-পা কাঁপতে শুরু করে, হেলুসিনেশন হয়, পাগলামি ভাব দেখা দেয়, প্যারানয়া হয়। লেখাপড়া খারাপ হয়ে একসময় ডিপ্রেশন বা হতাশাজনিত নানা রকম অপরাধ প্রবণতা, এমনকি আত্মহত্যাও করে থাকে। আর এই কারনে বেশিরভাগ যুব সমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। তাই এই মাদক ব্যবসায়ী শোয়েবকে আটক করে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্ত থেকে রক্ষা করে মাদকমুক্ত বানিয়াপাড়া করার জন্য পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে এলাকার সচেতন মহল।