
সেলিম রেজা সালাম, গড়াইনিউজ২৪.কম:: জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়াতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চন্দনা নদীতে খনন কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রকল্প কমিটির সাথে যোগসাজশে কৌশলে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা তুলে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে। পদে পদে এই জলাশয় সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ভেস্তে গেছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় জলাশয় সংস্কার প্রকল্প চলমান ছিল। এ কাজে উপজেলার চন্দনা নদী খনন কাজে ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে কোনো প্রকার খনন কাজ না করেই দুই দফায় ব্যাংক চেকের মাধ্যমে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রেজাউল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও জেলা মৎস্য অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত তাদের মধ্যেই বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির অন্যান্য সদস্যদের টাকার ভাগ না দেওয়ায় সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনাও ঘটে। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন বাস্তবায়ন কমিটি ও মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রেজাউল। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৎস্যজীবীরা জানান, চন্দনা নদীতে খনন কাজ না করে দুই দফায় টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মাঝে কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মৎস্যজীবীরা কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেন। নকশা অনুযায়ী কাজ হয়নি। কোনো রকমে পাড় বেঁধে রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা বাস্তবায়ন কমিটির সমিতির সভাপতি রেজাউল,জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও জেলা মৎস্য অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানার মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে।মৎস্যজীবী আনিস আলী বলেন, কাজে অনিয়ম হয়েছে। তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন। অফিসের লোকজন আসার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাছ চাষ করে লাভ করা যাবে না এখানে। সংশ্লিষ্টরা জড়িত থাকায় এ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ভেস্তে গেছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রেজাউলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ভেড়ামারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরীন বলেন, আমি এ প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। দুই দফায় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যেভাবে খনন কাজ করার নিদের্শনা ছিল সেটি মানা হয়নি। এ বিষয়ে জেলা কর্মকর্তারায় ভালো বলতে পারবেন। জেলা মৎস্য অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সব জানেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেই ভালো হয়। কুষ্টিয়ার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, অর্থ বরাদ্দ আসে মৎস্যজীবী সমিতির অনুকূলে। তাঁরাই সব করেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। তবে নামমাত্র কাজ হয়েছে এটি আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিরাজুল ইসলাম বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তাদের বিষয়টি মৎস্য মন্ত্রণালয় দেখভাল করেন। মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনকে নিদর্শনা দিলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, এ জেলায় চলতি অর্থবছরে জলাশয় সংস্কার প্রকল্পে খনন কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। এতে ভেস্তে গেছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আতিকুর জামান ছন্দ
কুষ্টিয়া অফিস: রহমান টাওয়ার (বি-৩), পুরাতন আলফার মোড়, দাদাপুর সড়ক, কুষ্টিয়া।
ঢাকা অফিস - ৫০/১ হাবিব সেন্টার (৯ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
মোবাইলঃ + ৮৮ ০১৭১৪-৫৪৬৬৭৩