
কুষ্টিয়া অফিস :: ভারতের বিহার অঞ্চলে ফারাক্কা বাধের একশোটি গেট খুলে দেওয়ার বিরুপ প্রভাব পড়েছে কুষ্টিয়ায়। সম্প্রতি বন্যার পানি কমে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে আবার আকস্মিক ভাবে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বেড়েই চলছে। হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। পদ্মায় পানি বেড়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৩৫টি ও ভেড়ামারা উপজেলার দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলা পাউবোর সূত্র বলেছে, শুক্রবার বেলা তিনটায় এ নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভারত ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইতিমধ্যে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারত সরকার বিহার রাজ্যের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে তাদের বন্যার পানি বাংলাদেশে দিয়ে দিচ্ছে ফারাক্কার ১১৭টি গেটের মধ্যে ১০০টি গেট খুলে দিয়ে। এতে উজান থেকে নেমে আসা পানি পদ্মা ও পাগলা নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি তিন ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে পদ্মা ও পাগলা নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে ধারনা করা হচ্ছে। এভাবে পানি বাড়ার গতি অব্যাহত থাকলে শনিবারের মধ্যে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পদ্মার পানির বিপদসীমা হচ্ছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। শনিবার দুপুর ১২ টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে ১৪ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা থেকে মাত্র পয়েন্ট ১৭ সেন্টিমিটার দূরে। জানা যায়, গতকাল পানির মাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার, গত ১৮ আগস্ট এ পানির মাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার। ১৯ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। ২৫ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার। প্রতি তিন ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদেও অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে। দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহম্মেদ বলেন, এই ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের ৪০ হাজার বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসব মানুষ। ধান, মরিচ ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলার ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। রামকৃষ্ণপুর ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজ মোল্লা বলেন, মাত্র দুই দিনের পানি বৃদ্ধিতে এ ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পদ্মার শাখা গড়াই নদের পানিও বাড়ছে। এতে কুষ্টিয়া শহর-সংলগ্ন নদতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক দুপুরে বলেন, ‘যে গতিতে পানি বাড়ছে, তাতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। ভারতের বিহারে ভারী বৃষ্টি হতে থাকায় ভারত ফারাক্কা বাঁধের কপাট খুলে দিয়েছে।’ পাউবোর এক কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা ও গড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধগুলোতে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আতিকুর জামান ছন্দ
কুষ্টিয়া অফিস: রহমান টাওয়ার (বি-৩), পুরাতন আলফার মোড়, দাদাপুর সড়ক, কুষ্টিয়া।
ঢাকা অফিস - ৫০/১ হাবিব সেন্টার (৯ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
মোবাইলঃ + ৮৮ ০১৭১৪-৫৪৬৬৭৩