প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৭:৩৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩১, ২০২১, ৫:০৬ অপরাহ্ণ

শারমিন আক্তার সোমা/গড়াই নিউজ২৪.কম::করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এরপর দিন গতকাল রোববার ফের ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তাদের প্রশ্ন, ‘সব খোলা থাকলেও বন্ধ কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?’
এমন বক্তব্য নিয়ে সমাবেশ, মিছিল, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা। মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্কুল কলেজেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনেও তালা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আন্দোলনে নেমেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও। তবে গতকাল আবারও ‘স্কুল-কলেজের বিষয়ে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্তের’ কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
করোনা সংক্রমণের কারণে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে ১৩ জুন খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। গত ২৬ মে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী একথা বললেও গত শনিবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই সরে আসেন তিনি।
এদিন জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দীপু মনি বলেন, আমরা যে তারিখই নির্দিষ্ট করি না কেন, সেই সময়ের আগে করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকি নেবো না। পরে গতকাল স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলন করতে দেখা যায়।
ঢাবিতে সমাবেশ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি হয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে একই দাবিতে আগামী মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অপমৃত্যু ঘটা’ প্রশাসনের প্রতীকী মিছিল নিয়ে খাটিয়া মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
‘হল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দাও আন্দোলন’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা গতকাল রোববার সকালে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করেন।
সমাবেশে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ নজরুল বলেন, দেশের অফিস-আদালত, গার্মেন্টস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, শপিং মল সবই খোলা আছে। উৎসব, আয়োজনও হচ্ছে। তাহলে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ কেন?
সরকারকে সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকলে তারা যা-ই করুক, তার কোনো প্রতিবাদ হবে না। এ প্রতিবাদ সরকারের শাসন পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, এ ধরনের সামান্য আশঙ্কা থেকেই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রেখেছে।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাটা সরকারের ব্যর্থতা। সরকার যদি জাতির মেরুদ- শিক্ষাকে ধ্বংস করে, আমরা বসে থাকব না। শিক্ষার্থীরা আজকে হতাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন আজ ভূলুণ্ঠিত।’
অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র সাদিক মাহবুব ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যার দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে। কারণ, আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা ঠিকমতো নেওয়াটা তাদেরই দায়িত্ব। অথচ তাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই।’
করোনার অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত
আমাদের ছাত্র সংখ্যা অনেক বেশি। যখন তারা স্কুলে আসবে তখন সংক্রমণ বেড়ে যাবে- এ মন্তব্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের। আর এজন্য স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়টি অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। গতকাল চলমান লকডাউন বা বিধিনিষেধ আগামী ৬ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর পর রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়ে এক প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ রেখেছি। তাতে মানুষের চলাচলের প্রয়োজনীয়তা বা বাধ্যবাধকতা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকাটা স্বস্তিদায়ক। সংক্রমণের বতর্মানের ট্রেন্ডে স্কুল-কলেজ খোলাটাও পিছিয়ে যেতে পারে- এ প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটি তাদের বিষয়। উনি বলেছেন এটা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত খুলবে না।
তাহলে ৫ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। অপর এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেবেন। যদিও আমরা বিকল্প ব্যবস্থাগুলো চিন্তা-ভাবনা করছি স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে। যে রকম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে অনলাইন পরীক্ষা, অনলাইন ক্লাস চলমান।
ফের আন্দোলনে সাত কলেজ
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল ঢাকার নীলক্ষেত মোড়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা ঘোষণা দিয়েছেন, জুনের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে লাগাতার আন্দোলনে যাবেন তারা। এ সাত কলেজের একদল শিক্ষার্থী গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ঘুরে নীলক্ষেত পেট্রোল পাম্পের সামনে সমাবেশ করেন। একই দাবিতে সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান শেষে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা
আমাদের কুবি প্রতিনিধি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার সকাল ১১টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসময়, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা চাই’, ‘হাট বাজারে মানুষের ঢল, বন্ধ কেনো পরীক্ষার হল’,‘অনলাইনে পরীক্ষা মানি না, মানবো না,‘শিক্ষা নিয়ে তামাশা মানিনা, মানবো না’-এসব স্লোগান দিতে থাকেন।