কুষ্টিয়ার মাটির গৌরব বিআরবি!

0
162

আতিকুজ্জামান ছন্দ: আলহাজ্ব মজিবুর রহমান একটি নাম, একটি সংগ্রাম। বাংলাদেশের শিল্প বিকাশের জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই জনপদকে এগিয়ে নিতে এক সুদীর্ঘ সংগ্রামের পথপাড়ি দিয়ে সফলতার শীর্ষে আরোহনকারী একজন সফল শিল্পপতির নাম আলহাজ¦ মজিবর রহমান। ১৯৪৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার পদ্মা-গড়াই বিধৌত হাটশ হরিপুরের বোয়ালদহ গ্রামে সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা কিয়াম উদ্দিন, মাতা ছিরাতুন্নেছা। শিল্প ও বানিজ্য জগতে এক জীবন্ত কিংবদন্তী সমাজ হিতৈষী দানবীর আলহাজ্ব মজিবুর রহমান। কুষ্টিয়া চেম্বার এন্ড কমার্সের পরপর ৪ বার নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। কৈশোর থেকেই ব্যবসা বানিজ্য শুরু করেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৮০ এই দীর্ঘ বাইশ বছরে ট্রেডিং ব্যবসা করেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়ায় বি আর বি ক্যাবল ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করেন। সফলতার সিঁড়ি বেয়ে একের পর এক গড়ে তোলেন আরো বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান। তিনি কুষ্টিয়া শহরের এন,এস রোডে গড়ে তুলেছেন সম্পুর্ন শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ১০ তলা বিশিষ্ট ‘লাভলী টাওয়ার’ ভবন। তার প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো : বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, কিয়াম মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, এমআরএস ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, বিআরবি পলিমার লিমিটেড, বিআরবি সিকিউরিটি লিমিটেড, টিপিটি কেবল লিমিটেড, লাভলি হাউজিং লিমিটেড, কিয়াম ছিরাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, বিআরবি এনার্জি লিমিটেড, বিআরবি এয়ার লিমিটেড, বিআরবি ট্রাভেল, বিআরবি হসপিটাল লিমিটেড।
এছাড়া কিয়াম ছিরাতুন্নেছা ট্রাষ্ট গঠন করেন। এ ট্রাস্ট থেকে গরীবদের চিকিৎসা সেবা, বন্যা দুর্গতদের সাহায্য, লেখাপড়ার খরচ, মাদ্রাসা, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতি বছর ১০ জনকে নিজ অর্থে পবিত্র ‘হজ্জব্রত’ পালন করিয়ে থাকেন। তিনি বোয়ালদাহতে নিজ পিতামাতার স্মরনার্থে কিয়াম ছিরাতুন্নেছা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পুরাতন কুষ্টিয়া হাই স্কুলে নিজ অর্থায়নে বিজ্ঞান ভবন তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি বারংবার চেম্বারের সভাপতি ছিলেন। নিজ অর্থায়নে আধুনিক অডিটরিয়াম সহ ৭ কক্ষ বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ চেম্বার ভবনের কাজ সম্পন্ন করেছেন। নিজ অর্থায়নে আধুনিক অডিটরিয়ামসহ ৭ কক্ষ বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ চেম্বার ভবনের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি একাধিকবার এফবিসিসিআই এর সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তার উৎপাদনের গুনগতমান ও সফলতার নিদর্শন স্বরুপ ১৯৯৭ সালে শের-ই-বাংলা জাতীয় শিল্প একাডেমী স্বর্ন পদক ভূষিত হন। ১৯৯৭-৯৮ জাতীয় রপ্তানী ট্রফি স্বর্নপদক লাভ করেন। বাংলাদেশ এডুকেশন স্কলারশীপ ট্রাষ্ট স্বর্নপদক, ২০০১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবময় আর্ক অব এর ১০ম গোল্ডেন আমেরিকা এওয়ার্ড লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বারবার সিআইপি মনোনীত হন। দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক পণ্য উৎপাদান করে প্রতিবছর ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং হাজার হাজার শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দেশীয় পণ্য ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করণসহ কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে বিআরবি গ্র“প অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা নাম।
গুটি গুটি পায়ে পদযাত্রায় একটি ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে এই বিআরবি আজ জাতীয়-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। সফলতা, খ্যাতি অর্জন ও দক্ষতায় কুষ্টিয়ার এই প্রতিষ্ঠানটির কথা দেশ-বিদেশের শিল্প সমাজে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি একটি নতুন সংযোজন। কিন্তু বিআরবি’র আজকের এই বিশাল শিল্প খ্যাতি, যশ অর্জনের অতীত অনুসন্ধানে গেলে এক কঠিন আত্মত্যাগ ও জীবন সংগ্রামের পথ নির্দেশনা খুঁজে পাওয়া যায়। ভাবিয়ে তোলে কিভাবে এই শিল্প প্রতিষ্ঠার দুর্দিনে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পর পর বৃহৎ ১২ টি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। বিআরবি গ্র“প অব ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রতিষ্ঠা করেছেন কুষ্টিয়ার শিল্পাঙ্গনে এক মহান ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মজিবর রহমান। জীবন ও জীবিকার তাগিদে অতি অল্প বয়সেই তিনি কর্মে আত্মনিয়োগ করেন। শুরু হয় তার ‘কর্মেই সফলতা’র প্রতিষ্ঠায় পথচলা; এ চলায় তাকে কোন প্রতিবন্ধকতাই যেন রুখতে পারেনি। মনোনিবেশ করেন ট্রেডিং ব্যবসায়।
কুষ্টিয়ার এন.এস.রোডে ট্রেডিং ব্যবসায় নিদারুন পরিশ্রমের মধ্যে তাঁর চোখে একটি স্বপ্ন সব সময় তাড়িত করতো, একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের। ৪৭’র দেশ ভাগের পর ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতির রূপ বৈচিত্রে হেতু পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণের উপর নেমে আসে শোষণ-নিপীড়নের যাঁতাকল। রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিবেধের পাশাপাশি শিল্পকারখানা গুলোও তৎকালীন সরকার নানা কারণে গুটিয়ে নিতে থাকে। দিনের পর দিন এ জেলার বেকার সমস্যা বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক ও শিল্প বাণিজ্যও অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ঠিক এ সময় এ জেলারই কৃতি সন্তান আলহাজ্ব মজিবর রহমান কুষ্টিয়ায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সিন্ধান্ত নেন। ১৯৭৮ সালে জুলাই মাসে তিনি বর্তমান বিআরবি কেবলের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বনাথ মৈত্র কে সাথে নিয়ে ছোট্ট পরিসরের একটি ইন্ডাষ্ট্রি তৈরির জন্য জাপানে যান এবং সেখানে কয়েকটি কেবল ফ্যাক্টরী দেখে ধারণা নেন। পরবর্তীতে গড়ে তোলেন বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ। হাটি হাটি পা পা করে সেই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ^পরিমন্ডলে সুনামের সামে জায়গা করে দিয়েছে।
বিআরবি গ্র“প অব ইন্ডাষ্ট্রিজের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবর রহমান এ মাটির গৌরব, অহংকার ও সম্মান। সুদীর্ঘকাল ধরে একটু একটু করে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মুক্তবাজার অর্থনীতির বিশ্বয়ানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ অর্জনকে ধরে রাখতে সচেষ্ট। আর তাই এই শুভক্ষনে এর সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি আহ্বান, বিআরবি’র গৌরব-অহংকার ও উন্নয়নের এ ধারাকে ধরে রাখতে অতীতের সকল ব্যর্থতা গ¬ানিকে ভুলে ঐক্য ও দৃঢ়তার বন্ধনে একত্রিত হয়ে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলার দৃপ্ত শপথ। দীর্ঘ দিনের কর্ম প্রচেষ্টার ফসল এই বিআরবি প্রতিষ্ঠান। বিআরবি প্রতিষ্ঠানে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে হলে আপনাদের সবার সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন। তাই এ উন্নয়ন আরো এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের সচেষ্ট হতে হবে। তাহলে কুষ্টিয়ার উন্নয়ন হবে এবং কুষ্টিয়ার উন্নয়ন হলে আমাদের দেশ উন্নয়ন হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ