কুষ্টিয়া আলফার মোড়ের সিএনজি স্ট্যান্ড এখন মাদকের স্বর্গরাজ্য!

0
248

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলফার মোড়ে ব্যস্ততম দাদাপুর সড়কের নবীন টাওয়ারের পাশে অবস্থিত অস্থায়ী সিএনজি স্ট্যান্ড। আবাসিক এলাকার মধ্যে এই অস্থায়ী সিএনজি স্ট্যান্ড হওয়ার কারনে এলাকায় মাদক ও চুড়ির ঘটনা বেড়েই চলছে। আর এই করোনাভাইরাসের মধ্যেও কোন নিয়মকানুন মানছে না ড্রাইভার সহ যাত্রীরা। সামাজিক দূরত্ব তো দুরেই রয়েছে, আবার নেই কোন মাস্ক কিংবা গেøাবস। আর এভাবেই এই অস্থায়ী সিএনজি স্ট্যান্ডের ড্রাইভাররা মাদকের সাথে নিয়ে আসছে করোনাভাইরাস।
সূত্র মতে জানা যায়, পশ্চিম মজমপুর এলাকার কিছু উঠতি নেতাদের ছত্রছায়ায় রয়েছে এই অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। স্থানীয় এলাকার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে জানা যায়, এইখানে প্রচুর সিএনজির আনাগোনা, আর এইসব সিএনজিতে করে চলে আসছে মাদক। র‌্যাব এবং মাদক অধিদপ্তরের লোকজন মাঝেই মাঝেই হানা দেয়। তারপরেও থেমে নেই মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যে মাদক পাচার। এখানকার অনেক সিএনজি আল্লারদর্গা, ভেড়ামারা, মিরপুর এবং ইশ্বরদী থেকে আসে। এইসব সিএনজিতে করে দেদারছে চলে আসছে মাদক। আর এই কারনেই কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। মনে হচ্ছে উপজেলার সর্বত্র এখন মরণনেশা মাদকের ছোবল। সর্বনাশ হচ্ছে কুষ্টিয়ার তথা দেশের কিশোর ও যুব সমাজের। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আলফার মোড়ের সিএনজি স্ট্যান্ডের নবীন টাওয়ারের পাশে যে মাঠটি অবস্থিত সেই মাঠে সন্ধ্যাকালীন সময়ে খদ্দেরদের আনাগোনা বেশী। এসব বন্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এমনকি সামাজিকভাবেও কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠছে না। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদকের ব্যাপকতা। আর এর সর্বনাশা ছোবলে ধ্বংশ হচ্ছে এলাকার কিশোর ও যুব সমাজ। এই সিএনজি স্ট্যান্ডের কিছু ড্রাইভার মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রে জানা যায় বেশ কিছুদিন আগে কুষ্টিয়া র‌্যাবের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিএনজি স্ট্যান্ডে অভিযান চালিয়ে কয়েকশ পিস ইয়াবা, নগদ টাকা সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে দুইজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আপনি বর্ডার এলাকা কিংবা আল্লারদর্গায় ফোন দিলেই সিএনজি করে চলে আসবে আপনার হাতে। শুধু অপেক্ষা সিএনজি স্ট্যান্ডে আর হাত বাড়ালেই ইয়াবা মেলে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই চলে ইয়াবার কেনাবেচা। বিক্রেতাদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে স্থানের কথা বললেই পৌঁছে দেওয়া হয় মরণনেশা ইয়াবা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, সিএনজি স্ট্যান্ডে ইয়াবার যে ছড়াছড়ি তা আমরা কিছুটা আচ করতে পেরেছি। এই অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড সড়ানোর কথা বললেই বড় বড় নেতারা ৫ মিনিটের মধ্যেই ফোন দিয়ে হুমকি প্রদান করে। কথায় আছে আল্লারদর্গায় নাকি ইয়াবা ও হিরোইনের হাট বসে। আর এই আল্লারদর্গা থেকেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা নিয়ে আসছে সিএনজি স্ট্যান্ডে। তার পর সুবিধামতো জায়গায় পৌছে দিচ্ছে মাদক। তিনি আরো বলেন, এই অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড মূলত নিয়ন্ত্রণ করে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী কিছু স্থানীয় পাতি নেতা। তার নির্দেশে ব্যবসা করে যাচ্ছে। কিছুদিন পূর্বেও তারা বিএনপির রাজনীতি করত। হঠাৎ করেই তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে।
এ ব্যপারে কুষ্টিয়া জেলার সচেতন মহল বলেন, এই জায়গা থেকে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে কুষ্টিয়া পৌরসভার বাইরে স্থানান্তর করা হোক। এবং সিএনজি স্ট্যান্ডের উপর কড়া নজরদারি বাড়নো হোক। না হলে কুষ্টিয়ার যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ